জেলা জুড়ে বইতে শুরু করেছে সংসদ নির্বাচনের হাওয়া বাগেরহাট-৪ আসনে এবার দলীয় মনোনয়ন চাইবেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সোহাগ

0
1048

এস.এম. সাইফুল কবির, বাগেরহাট : বাগেরহাট জেলাজুড়েই বইতে শুরু করেছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া। বাগেরহাট জেলায় সংসদীয় আসন (৯৫-৯৮) ৪টি। এই ৪টি আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সংসদের বাইরে থাকা প্রধান বিরোধী দল বিএনপি থেকে কে কোন আসনে দলীয় মনোনয়ন পাবেন এনিয়ে চলছে নানামুখী জল্পনা-কল্পনা। এসবের পাশাপাশি এদুটি প্রধান দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী নবীন নেতাদের এলাকাবাসিকে জানানো শুভেচ্ছা ব্যানার, পোস্টার ও প্যনায় ছেয়ে গেছে হাট-বাজার, জনপদ।
তবে, সংসদীয় আসন-৯৮, বাগেরহাট-৪ (মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলা) এই আসনটিতে একাধিকবার জয়ী হয় আওয়ামী লীগের প্রার্থী। বিএনপি-জামায়াত জোট প্রার্থীও জয়ী হয়েছে কয়েকবার। বিগত সেনা সমর্থিত সরকারের সময়ের নির্বাচন থেকে এপর্যন্ত পর পর দুবার এই আসনের জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সমাজকল্যান প্রতিমন্ত্রী ডা. মোজাম্মেল হোসেন এমপি নির্বাচিত হন। তবে সর্বশেষ নির্বাচনে জেলার অন্য ৩ প্রার্থী বিনা প্রতিদন্ধিতায় নির্বাচিত হলেও এ আসনে ডা. মোজাম্মেল হোসেনকে বজয়ী হতে হয়েছে দলের দুই নবীন বিদ্রোহী প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্ব›িদ্বতার মাধ্যমে। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগের একনিষ্ঠ সমর্থন ও প্রচার তৎপরতা মোজাম্মেল হোসেনকে উত্তরণ করেছে বলে দলী একাধিক সূত্র দাবি করেছে।
আগামী নির্বাচনটি তীব্র-প্রতিদন্ধিতাপূর্ণ হওয়ায় প্রবীন সাংসদ ডা. মোজাম্মেলকে এবার মনোনয়ন দৌড়ের প্রতিযোগিতায় নামতে হচ্ছে। মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলায় তীব্র দলীয় কোন্দলের মধ্যে এবার কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কয়েক বছর ধরে এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে এই সংসদীয় আসনের আওয়ামী লীগ ও তার অংগ ও সহযোগি সংগঠনের বড় অংশ সাবেক এই ছাত্রনেতার হয়ে গণসংযোগ করছেন। দলমতের উর্ধ্বে উঠে অসহায়-দরিদ্র এবং দলের তৃর্ণমূল পর্যায়ে হামলা-মামলার শিকার নেতাকর্মীদের সাধ্যমত সাহায্য- সহযোগিতা করে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন। ক্লিন ইমেজের দক্ষ এই নেতা বৈবাহিক সূত্রে ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদ মনিরুজ্জামান বাদলের জামাতা এবং তাঁর চাচাশশুর কামাল উদ্দিন আকন শরণখোলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ায় সোহাগ বাড়তি সুবিধা পাবেন বলে এলাকাবাসীর মত। এসব কারনে তিনি শরণখোলায় উপজেলায় একজন সমাদৃত প্রার্থী হিসেবে আমজনতার কাছে খুব সহজে পৌছাতে পারছেন।
মোড়েলগঞ্জের সন্তান সোহাগ বলেছেন তিনি আগামী নির্বাচনে বাগেরহাট-৪ আসন থেকে প্রার্থী হতে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। দলকে ক্ষক্তিশালী করতে শরণখোলা- মোড়েলগঞ্জে তৃণমূলে কাজ করছেন। সোহাগ ছাড়াও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য এবং মোড়েলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট আমিরুল আলম মিলনও দলীয় মনোনয়নের প্রত্যাশায় এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপি-জামায়াত জোট থাকলে এই আসনে এবার জামায়াত থেকে প্রার্থী হবেন অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম। আর বিএনপি একক ভাবে প্রার্থী দিলে মোড়েলগঞ্জের সন্তান কেন্দ্রীয় বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সহসভাপতি কাজী খাইরুজ্জামান শিপন দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে তারা জানিয়েছেন। জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে দলটির সংখ্যালঘু বিষয়ক উপদেষ্টা সোমনাথ দে এই আসনে জাপার প্রার্থী হিসেবে তৃণমূলে গণসংযোগ করছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে