ধর্ম যার যার, উৎসব সবার- কথাটি প্রমাণ করলেন এমপি তানসেন

1
597
সুমন কুমার নিতাই, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার” এই প্রবাদটি পুজা এলেই সামাজিক মাধ্যমে চলে আসে। কথাটির সাথে এবার মিল পাওয়া গেছে৷ ধুপ হাতে হিন্দু ধর্মালম্বীদের সাথে নাচে গানে আনন্দ উৎসবে আলোড়ন সৃষ্টি করলেন বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম তানসেন। তার ব্যতিক্রম পরিদর্শনে খুশি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইট ও ইউটিউবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনায় রেজাউল করিম তানসেন এমপি। ঢোলের তালে ধুপ হাতে নাচের ছবিগুলো ফেসবুকে পোষ্ট করেছেন অনেকেই। এমপির ব্যতিক্রম কর্মকান্ডে আনন্দে আত্মহারা পুজারীরা। শুক্রবার দিনরাত ব্যাপী বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম ও কাহালু উপজেলার বিভিন্ন পুজামন্ডব পরিদর্শন করেন বগুড়া জেলা জাসদের সভাপতি রেজাউল করিম তানসেন এমপি। অধিকাংশ পুজামন্ডব পরিদর্শনকালে ধুপ হাতে ঢোলের তালে নাচেন তিনি। এসময় আনন্দে মেতে ওঠেন হিন্দু ধর্মালম্বীরা। আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে পাড়া মহল্যায়। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ এই কথাটি আর বক্তব্যে নয়। কথাটি প্রমান করে দিলেন তিনি। বুড়ইল, ধুন্দার, দামুয়াপাড়া, হাটকড়ই, নন্দীগ্রাম সদর, দেওগ্রাম, দুর্গাপুর, কাহালু সদর ও মুরইলসহ বিভিন্ন পুজামন্ডব পরিদর্শনকালে রেজাউল করিম তানসেন বলেছেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ধর্ম যার যার উৎসব সবার। বাংলাদেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করছে। শারদীয় উৎসব শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের নয়। শেখ হাসিনার সরকার শারদীয় উৎসবকে গুরুত্ব দেন। শেখ হাসিনার সরকার উন্নয়ন বান্ধব সরকার। শেখ হাসিনা আছেন বলেই দেশের তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার হচ্ছে গরীব বান্ধব সরকার। আওয়ামীলীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকলে দেশের অবহেলিত-বঞ্চিত মানুষেরা নিজের প্রাপ্য অধিকার পান। তানসেন এমপি বলেন, কথা দিলাম, সুখে দুখে জনগনের পাশে থাকবো। নন্দীগ্রাম-কাহালু উপজেলার মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন।  আমি মনে করি, আমানত ভোটটি সেবা আর এলাকার উন্নয়নের জন্য আমার প্রতি অর্পন করেছেন। আমিও জনগনের সেবা আর এলাকার উন্নয়ন করা ইবাদত হিসেবে গ্রহণ করেছি। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন, জেলা জাসদ নেতা ও নন্দীগ্রাম উপজেলা জাসদের সভাপতি কামরুজ্জামান কামরুল, উপজেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক মাহমুদ আশরাফ মামুন, বুড়ইল ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন, জাসদ নেতা নুরুল ইসলাম সেফা, ৭১ভিশনের নির্বাহী সম্পাদক নজরুল ইসলাম, ইউপি সদস্য শাজাহান আলী, ঝর্না রানী, সাবেক ইউপি সদস্য মোখলেছার রহমান, উপজেলা কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ওসমান মোল্লা, কৃষকলীগ নেতা আব্দুল হান্নান, আবু সাইদ, আব্দুস সামাদ, এরফান আলী, শামছুল আলম প্রমুখ।
মুরইল চাকীবাড়ী পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বিজন চাকী ও সেক্রেটারি সবুজ চন্দ্র সহ একাধিক হিন্দু ধর্মালম্বীরা বলেন, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার- কথাটি এতদিন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসন কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের মুখেই শুনে আসছি। কথাটি আজ প্রমান করে দিলেন এমপি তানসেন। এমন একজন এমপি পেয়ে আমরা সত্যিই গর্বিত।

1 মন্তব্য

  1. সৃষ্টি কর্তার বলে দেওয়া পন্থায়ই পালন করে একচ্ছত্র ভাবে তার ধর্মগ্রন্থানুস্বারে।

    আর ধর্মীয় উৎসব সৃষ্টিকর্তা নির্ধারন করে দিয়েছেন তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ইবাদতের মাধ্যম হিসাবে।

    তাই হিন্দু ধর্মাবলম্বন কারী ঈদ উৎসবে আসবে কাকে সন্তুষ্ট করার জন্য? তাদের সৃষ্টি কর্তাতো এই পথবলে দেন নাই তাহলে সে যদি অন্য ধর্মের উৎসব পালন করে তাহলে কি সৃষ্টি কর্তাকে অমান্য করা হলোনা?

    তদ্রুপ প্রত্যেক ধর্মের নিজস্ব উৎসব নির্ধারিত এটা সবার হওয়ার জন্য কোন “মানুষের “ঘোষনা দেওয়ার অধিকার নাই।

    ইসলামের তো নিজস্ব একটা বিধান দেওয়া আছে আল্লাহ পক্ষথেকে। কি করলে তাঁর সাথে কাওকে শরীক করা হবে বা শীর্ক হবে।

    তাহলে তাঁর নির্ধারিত উৎসব ছাড়া অন্য ধর্মের উৎসবে গেলে মানা হলো নাকি অমান্য করা হলো?

    আর অমান্য করার অর্থই হলো অস্বীকার করা যে শুধু তোমার হুকুম মানিনা সাথে আরও সৃষ্টি কর্তা মানি।

    এটাই শীর্ক আর যারা এটা করবে তারাই মুশরিক বেশী ব্যাখ্যার প্রয়োজন নাই।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here