‘পদ্মার প্রেম’ আশাহত করবে না: আইরিন

0
21

রুহুল আমিন ভূঁইয়া: চলতি বছর ২০ সেপ্টেম্বর কলকাতায় মুক্তি পেয়েছে হারুন-উজ-জামান পরিচালিত আইরিন অভিনীত ‘পদ্মার প্রেম’ ছবিটি। বাংলা, ওড়িয়া ও ভোজপুরি ভাষায় নির্মিত এই ছবিটি আজ (১ নভেম্বর) দেশের ১৯ প্রেক্ষাগৃহে ‘পদ্মার প্রেম’ নামে মুক্তি পাচ্ছে। ছবিতে গ্রামের চঞ্চল মেয়ে পদ্মার চরিত্রে অভিনয় করেছেন চিত্রনায়িকা আইরিন সুলতানা। ‘পদ্মার প্রেম’ ছবির গল্প গড়ে উঠেছে পদ্মা নদীর পাড় ঘেঁষা একটি গ্রামের মানুষকে কেন্দ্র করে। ছবিটি চলতি সপ্তাহেও কলকাতার আটটি হলে চলছে বলে আইরিন জানান। ‘ছবিটি মুক্তির পর অনেক দর্শক রেসপন্স পেয়েছি। নভেম্বরের শেষের দিকে ভোজপুরি মুক্তি পাবে। আমাকে পদ্মা চরিত্রে দেখা যাবে। পদ্মা মা মরা একটি মেয়ে। বাবা গ্রাম প্রধাণ। সব কিছু মিলিয়ে চঞ্চল উচ্ছল চরিত্র। এরকম চরিত্র আগে কখনো করিনি। ভীষন ভালো লাগেছে কাজটি করতে পেরে।’ -বললেন আইরিন।

ছবিটি কেন দেখা উচিত? ‘গল্প নির্ভর একটি ছবি। পরিবার নিয়ে হলে গিয়ে দেখার মত একটি ছবি। গান-টিজার দেখে সবাই প্রসংশা করেছেন। এছাড়াও কলকাতা থেকেও সাড়া পাচ্ছি।’ অনেকেই বলে থাকেন, ছবির ট্রেলার যতখানি ভালো হয়, চলচ্চিত্রটি হলে দেখতে গিয়ে দর্শক ততখানি নিরাশ হন। তবে ‘পদ্মার প্রেম’ দেখে দর্শক নিরাশ হবেন না বলে আইরিন জানান। এদিকে, ২০১৮ সালে ছবির কাজ শুরু হয় আর শেষ হয় চলতি বছরের জানুয়ারিতে। ছবির শুটিং হয়েছে মানিকগঞ্জের পদ্মা পাড়ে। এতে আইরিন ছাড়া আরও অভিনয় করেছেন অভিনেতা সুমিত সেনগুপ্ত, সাদেক বাচ্চু, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, চিত্রনায়ক আলেকজান্ডার বো, চিত্রনায়িকা মুনমুনসহ অনেকে। আইরিন অভিনীত‘সেভ লাইফ’, ‘পার্টনার’, ‘আহারে জীবন’, ‘রৌদ্রছায়া’ ছবিগুলো মুক্তির মিছিলে রয়েছে।

এখনকার বেশিরভাগ ছবিই ব্যবসায়িক ভাবে সফলতা পাচ্ছে না। কীভাবে সফলতা পেতে পারে বলে মনে করেন? ‘এখনকার বেশির ভাগ ছবিতে সফলতা পায় না কথাটি ঠিক। তাই প্রথমে বলতে চাই একজন শিল্পী যখন কাজ করে তখন তার মাথায় থাকে না সিনেমার কথা। সে মন দিয়ে তার কাজটিই করে। পুরো বিষয় থাকে পরিচালকের ওপর। কেউ নিজের প্রতি নির্ভর করতে পারে না। একজন শিল্পী পরিচালকের ওপর নির্ভরশীল। সেই পরিচালকের কাছে ছবিটির সফলতা নির্ভর করে এবং শিল্পীর ভাগ্যও। একজন শিল্পী তার জায়গা থেকে শতভাগ চেষ্টা করে ভালো করার। তবে সব কিছু নির্ভর করে পরিচালকের ওপর। তবে মাঝে মাঝে দেখা যায় কিছু ছবির প্রচারণায় ছাড়াই মুক্তি পায়। যার কারনে ছবিটি ব্যাপারে কেউ জানতে পারে না। অনেকটা নিরবই মুক্তি পাওয়ার কারনে ছবিটি আর্থিক ভাবে লোকসান গুনতে হয়। তখন প্রযোজক পরবর্তীতে প্রয়োজনায় আগ্রহী হয় না। তবে প্রচার থেকে শুরু করে ছবিটির সফলতার কথা চিন্তা করে সবাই কাজ করলে তাহলে ছবিটি সফলতা পাবেই।’ -বললেন আইরিন।

সবার মুখে একটাই কথা, ফিল্মপাড়ায় সংকট। উত্তরণের কোনো আইডিয়া বা পরামর্শ আছে কি? ‘সিনেমা নেই যার কারনে এত সংকট। সিনেমা বাড়াতে প্রথম ভূমিকা হিসেবে হলের পরিবেশ ঠিক করতে হবে। এবং আধুনিক হল নিমার্ণ করতে হবে। দিনদিন আমরা সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। সংস্কৃতিতে দর্শকদের ফিরিয়ে আনতে হবে। তাদের ফিরিয়ে আনতে হলে ভালো গল্পের সিনেমা হতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে টাগের্ট করে সিনেমা বানাতে হবে। যোগ করে আইরিন বলেন জানতে পারলাম চলচ্চিত্রের হাজারও ইতিহাসের স্বাক্ষী ‘রাজমণি’ সিনেমা হলটি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষর কাছে অনুরোধ সেখানে মাল্টিপ্লেক্স করার পাশাপাশি একটি সিনেপ্লেক্স করার। কারণ হাজারও ইতিহাসের স্বাক্ষী এই হলটি। আমরা দূরভাগা আমাদের সংস্কৃতি ধরে রাখতে পারছি না। বিলপ্তির দিকে ঢেলে দিচ্ছি। সেই জায়গা থেকে যেনও ঐতিহাসিক যে জায়গা গুলো আছে সেগুলো যেন ধরে রাখতে পারি। সবশেষে দর্শকদের উদ্দেশ্য আইরিন বলেন, সব ছবি সবার জন্য না। ‘পদ্মার প্রেম’ যারা দেখতে যাবেন তারা আশাহত হবেন না। সবাই সুন্দর একটি গল্প নির্ভর ছবি দেখতে পাবেন। ছবিটি দর্শক হলে গিয়ে দেখলে নিরাশ হবে না কথা দিচ্ছি।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here