মাদারীপুরে পাওনা টাকা নিয়ে ইটেরভাটায় সংঘর্ষ ও লুটপাট। ২০ জন আহত!

0
98

মাদারীপুরে পাওনা টাকা আদায় নিয়ে দু পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ও ইট ভাটায় লুটপাটের ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুইজনকে গুরুতর অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের জাজিরা এলাকায় একতা ব্রিকস নামক ইট ভাটায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, সোহাগ মোল্লাকে (২৮),পলাশ মাতুব্বর (৩০), সুকুমার (২৫), মো. আমিরুল (২২), আয়ুব (২০), সাইদুল (২২), সেলিম খান (২৫), সুমন খান (২৭), হাবিবুর রহমান খান (৫৫), বিল্লাল হোসেন (৪৮), মিঠুন চৌধুরী (১৮), আসিব শিকদার (২২), খবির খান (৪৫), রাশেদ খান (১৮), সুফিয়া বেগম (৭০) ও রানু বেগম (৪৫)। বাকিদের নাম জানা যায়নি।আহতদের অধিকাংশরাই মাদারীপুর সদর পাঁচখোলা ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, আবুল মান্নান খান ও সোবাহান ফকির- পাচখোলা জাজিরার একই স্থানে পাশাপাশি অবস্থিত এই দুই মালিকের ইটের ভাটা।জানা মতে, পাশাপাশি ভাটা হওয়ায়,নিজেদের মাঝে রেষারেষি ও অন্নান্য বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ তাদের মাঝে দন্ড চলছিল।আজ দুপুরের আগে হঠাৎ মান্নান খানের ইটভাটায় সংঘর্ষ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।সংঘর্ষকারীদের হাতে দেশীয় অস্র,সহস্র থাকায় এগোতে চাইলেও আমরা কেহ ভয়ে এগোতে পারিনি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক শ্রমিকগণ জানান,

বেলা ১২ টার দিকে ভাটার মালিকের কাছে টাকা পাবে বলে এখানে বেশকিছু লোক জমা হন। পরে তারা নিজেরা নিজেদের সাথে তর্ক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন এক পর্যায়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রুপ নেয়।এসময় একতা ব্রিকস এর মালিক তার ভাটায় উপস্থিত ছিলেন।সংঘর্ষ থামানোর উদ্দেশ্যে তিনি এগিয়ে এলে সংঘর্ষকারীরা হঠাৎ তার উপর চড়াও হন।আমরা এগিয়ে গেলে তারা আমাদেরও আক্রমণ করেন।সংঘর্ষকারীদের চিনেন কিনা জানতে চাইলে জবাবে তারা বলেন,আমরা বিদেশী লোক সংঘর্ষকারীদের চিনিনা।পেটের দায়ে কাজ করতে এসেছি।মারামারি,খুনাখুনিকে আমরা ভয় পাই।

এব্যাপারে একতা ব্রিকসের মালিক মান্নান খানের ছেলে, শাওন খান বলেন,

চলমান নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বৃহস্পতিবার বিকেলে আমার বাবা ইট ভাটার শ্রমিকদের বিল প্রদান করেন।আজও শ্রমিকদের বিল প্রদানের উদ্দেশ্যে বাবা সকালে নগদ টাকা নিয়ে ভাটায় আসেন।কিন্তু বেলা ১২ টার দিকে আমাদের পাশের ভাটার মালিক, সোবাহান ফকিরের নেতৃত্বে তার ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিত ভাবে আমাদের ভাটায় এসে সংঘর্ষ বাধান এবং আমাদের অফিসের সকল আসবাবপত্র ভাংচুর করে,আলমারিতে থাকা নগত ৮ লক্ষ্য টাকা লুট করে নিয়ে যান।এসময় ইট ভাটায় কর্মরত আমাদের কিছু শ্রমিক এগিয়ে এলে তাদেরকে এলো পাতারি কুপিয়ে জখম করেন সন্ত্রাসীরা।আহতদের মধ্যে,মোঃ পলাশ মাতুব্বর (৩০) ও সোহাগ মোল্লা(২৮) কে চিকিৎসার জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতাল নিলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন চিকিৎসক।এঘটনায় বিভিন্ন জেলা হতে আসা আমাদের ভাটায় কর্মরত শ্রমিকগণ ভীতু ও সংকিত হয়ে পড়েছেন।ভয়ে অনেকেই ইট ভাটা থেকে চলে যাচ্ছেন।আমরা এ ঘটনার বিচার দাবী করছি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সোবাহান ফকিরের মোবাইল ফোনে কল করেএকাধিকবার চেষ্টা করেও পাওয়া না গেলে,সদর হাসপাতালে ভর্তি,তার গ্রুপের খবির খান বলেন,

পাওনা টাকা চাইতে যাওয়ায়,মান্নান খানের লোকজন আমাদের আক্রমন করেন।আমরা তাদের কোন ক্ষতি করিনি। তারাই বরং আমাদের লোকজনকে মারধর করেছেন।আমাদের অনেকেই হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, ‘খবর শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়।এ ঘটনায় দুই পক্ষের দোষ আছে।তাই আমরা দুই ইট ভাটার মালিক, সোবাহান ফকির ও মান্নান খান জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছি। দুই পক্ষের বিরুদ্ধেই মামলা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here