মাদারীপুরের কালকিনিতে লাইন দিয়ে ৫০ টাকায় মোবাইল চার্জ

0
2111

মেহেদী হাসান সোহাগ, মাদারীপুরঃ
ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলায়। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানসহ এলাকার লাখ-লাখ মানুষ। যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম মোবাইলও চার্জের অভাবে বন্ধ গেছে।
এ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে অনেকে চার্জের ব্যবসা শুরু করে দিয়েছেন।
কালকিনি উপজেলা শহরে এসে বেল্লাল ডেকোরেটর, দুলাল ডেকোরেটর, আলিহোসেন ডেকোরেটরসহ গোপালপুর, ভুরঘাটা, কালকিনি থানার মোড়, মাছ বাজারসহ প্রায় ২০টি দোকানে জেনারেটরের মাধ্যমে চার্জারের ব্যবসা দিয়েছেন।
লাইন দিয়ে ৫০ টাকার বিনিময় মোবাইল চার্জ দিচ্ছেন এলাকবাসীসহ ব্যবসায়ীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত শুক্রবার বিকেল থেকে এলাকার বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে। এমনকি শনিবার থেকে শহর থেকে শুরু করে উপজেলা সকল স্থানে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে বিদ্যুতের খুঁটি, গাছ পড়ে তার ছিঁড়ে, ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে।
কালকিনি উপজেলার বিদ্যুতের ৯১টি খুঁটি হেলে গেছে। তিনটি ট্রান্সফরমার নষ্ট হওয়াসহ ৪ শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যুৎ নেই তিন দিন।
বিদ্যুৎবিহীন এলাকায় সবকিছু স্থবিরতা বিরাজ করছে। এলাকায় সকল মোবাইল ফোন নেট বন্ধ ছিল একদিন। তবে জেনারেটরের মাধ্যমে মোবাইল নেট চালু হলেও মোবাইল ফোনে চার্জ না থাকায় বন্ধ হয়ে আছে দূর-দূরান্ত, প্রিয়জন, আত্মীয়, বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ।

কালকিনিতে জেনারেটর চালু করে একাধিক ডেকোরেটরের মালিক সিরিয়ালের মাধ্যমে ৫০ টাকার বিনিময়ে শুরু করেছেন ভ্রাম্যমাণ মোবাইল চার্জ। টাকার বিনিময়ে হলেও মোবাইল চার্জ পেয়ে খুশি এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা।
বেল্লাল ডেকোরেটরের মালিক বেল্লাল বলেন, আজ তিন দিন ধরে এলাকায় বিদ্যুৎ নেই, তাই নিজেই যখন জেনারেটর চালু করে মোবাইল চার্জ দিচ্ছিলাম হঠাৎ কয়েকজন বৃদ্ধ মানুষ কয়েকটি ব্যাগে করে মোবাইল, লাইট, চার্জার লাইট নিয়ে আসছে, প্রথমে আমি দিতে চাই নাই পরে ‘সে টাকা দিতে চাইলো’। তাছাড়া জেনারেটর চালু করলে আমারও অনেক খরচ হয়। তাই খরচ যাই হোক সকলকেই ইলেকট্রিক সামগ্রীতে চার্জ দিলাম। আমি মোবাইল চার্জ প্রতি ২০ টাকা নিচ্ছি।
গোপালপুর একটি ভ্রাম্যমাণ দোকানদার মহসিন বলেন, আমি দেখলাম টাকা নিলেও মানুষের উপকার হচ্ছে। তাই জেনারেটর ভাড়া করে সকলের চার্জের ব্যবস্থা করছি। আমি চার্জ প্রতি ৫০/৩০/২০ টাকা যার কাছ থেকে যা নেওয়া যায়। আর এলাকার মানুষও খুশি।
মোবাইল চার্জ দিতে আসা হেমায়েত হোসেন, সুমনা, হাকিমসহ অনেকে জানান, টাকা লাগছে এতে কোনো সমস্যা নেই। মোবাইল, লাইট, চার্জার লাইট চার্জ দিতে পেরেছি এতেই আমরা খুশি। তাছাড়া তাদেরও জেনারেটর খরচ আছে। তাদের কারণে আমাদের দুর্ভোগে পড়া মানুষের উপকার হচ্ছে।
মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কালকিনি উপজেলা অফিসের ডিজিএম মো. আব্দুল মাজেদ জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে কালকিনি উপজেলার বিদ্যুতের ৯১টি খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুই একদিনেও সকল লাইন চালু করা সম্ভব কিনা তা নিশ্চিত নয়। তবে শহর এলাকায় গতকাল চালু করা হয়েছে।
সূত্র:দেশ রূপান্তর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here