আমি” করোনা “মানব সভ্যতায় আশির্বাদ। অভিশাপ নয়।(পর্ব ১৮)

0
2
আমি

মিজানুর রহমান মুন্সি ।। ঈদ আনন্দে আমি কতটা মাতামাতি করেছি কিংবা করতে পেরেছি তারচেয়ে অবাক হয়ে দেখেছি এ দেশের অসচেতন জনগনের আবেগ। আবেগপ্রবন এ জাতী তার আবেগ থেকে একচুল পরিমানও সরে দারায় নি, এমনকি সাথে সাথে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়ে দাম্বিকতা মূর্খতার পরিচয় দিতেও ভুল করেনি।
ঈদে কেমন কাটালাম মূর্খ জাতি নিয়ে সে বিষয়ে আলোকপাত করার জন্য আজকের এই লেখা ;
ঈদ ভ্রমন সেরে যখন একটু বিশ্রাম নিতে চেয়েছি তখনই টিভির পর্দায় নুতন বুলেটিং এ আবার আমাকে অবাক করে দিল। ভেবে নিয়েছি আর বোধ হয় আমার বিশ্রাম নেয়া হবে না। সকল অফিস আদালাত লকডাউন খুলে দেয়ার নোটিশ। এ সকল দায়িত্ত্ব হীন সিদ্ধান্তে আমার গাঝারা দিয়ে উঠতে হল। পৃথিবীর সকল দেশে যখন করোনা নিম্নমুখী তখন তাদের লকডাউন তারা ছেড়ে দিয়েছে। অথচ এদেশে যখন করোনা ঊর্ধ্বমুখী তখন এদেশের দায়িত্ত্ব শীলদের এই সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হিসাবে আমার কাছে বিবেচিত হয়েছে।
উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আইন সকলের মেনে নিতে হয় তাই অনিচ্ছা সত্বেও এ জাতির সকলের মেনে নিতে হয়েছে । তাই আমারও আর বিশ্রাম নেওয়া হলো না। সকল শক্তি দিয়ে শুরু হয়ে গেল আমার এবারের নতুন যাত্রা। অভ্যন্তরীণ বিমান নৌপথে লঞ্চ আর স্থলপথে গাড়ি ট্রেন চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের শর্ত সাপেক্ষে প্রজ্ঞাপন জারি করলেন। প্রজ্ঞাপন এর শর্ত গুলো দেখে কঠিন প্রতীয়মান হলেও আমি একেবারেই বিচলিত হই নাই। কারণ এ জাতির উপর আমার অনেক আস্থা আছে। সরকারের বেঁধে দেওয়া এ নিয়মের তোয়াক্কা না করে যে তারা ভ্রমণ করবে সে বিশ্বাস আমার ছিল।
ঈদের পুর্বে যখন লকডাউন ছেড়ে দিয়েছিল তখন দূরপাল্লার লঞ্চ ট্রেন এবং বাস চালু না থাকলেও ব্যক্তিগত গাড়ি চলায় ছিলনা কোন নিষেধাজ্ঞা। দিনমজুর গরিব মানুষগুলো তখন বিভিন্ন প্রকার যানবাহন ব্যবহার করে তাদের গন্তব্য স্থানে পৌঁছাতে পারিলেও এদেশের মিডিয়াগুলোতে করা হয়েছিল অপপ্রচার। বলা হয়েছিল এরাই করোণা ছড়াবে সারা বাংলায়। ফেরিঘাটের চিত্র আর ছোট ছোট যানবাহন এর গাদাগাদি করে ভ্রমনটাই ছিল মিডিয়ার প্রধান আলচ্য বিষয়। সকলের কাছে এমন ভাবে প্রতীয়মান হয়েছিল যে যারা ব্যক্তিগত গাড়ি কিংবা প্রাইভেটকারে ভ্রমণ করেন তারাই একমাত্র করোনা মুক্ত থাকবেন। আসলে ব্যাপারটা কখনোই সেরকম ছিলনা। এদেশের সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে শ্রেণীবিভাজন থাকলেও আমার কাছে কোন শ্রেণি ছিলনা। আমার কাছে ছিল সকল মানুষ সমান। অনেকের ধারণা ছিল ব্যক্তিগত গাড়িতে আমি প্রবেশ করতে পারিনা। তাই সকল দোষ ছিল ঈদে ফিরে আসা ঘরমূখী সাধারন মানুষের প্রতি।
আমি আমার তান্ডব সকল শ্রেণীর যানবহনে উপার চালিয়েছি সমানভাবে। ঠিক তেমন ভাবে আবার গ্রাম থেকে শহরের দিকে আমার যাত্রা। ঈদের আগে আমার ভ্রমন কৌশল ছিল যতটা কঠিন এবার যাবার পথে তার বিপরীত।
আমাকে এড়িয়ে চলার জন্য ভ্রমনের শর্তজুরে দিলেও আমি এতে মোটেই বিচলিত নই। কারন বৃহৎ জনগোষ্ঠীর এদেশে জনগনের তুলনায় যানবহন পর্যাপ্ত নয়। আমার আগমনের পুর্বে প্রতি ঈদেই প্রোয়জনের তুলনায় যানবাহন পর্যাপ্ত ছিল না। তখনো চাপা চাপি করে ঈদ আনন্দের চেয়ে দুর্ভোগ বেশী পোহাতে হয়েছিল। আর এখন সিমিত পরিসরে বেশী ভাড়ায় অর্ধেক যাত্রি বহন করবে আর এতে জনদুর্ভোগ থাকবে না কিংবা জনগন সেই নিয়ম ফলো করবে সে অংকের হিসাব আমি মিলাতে না পেরে আমি আমার কাজে মনোনিবেশ করিলাম।
যেই চিন্তা সেই কাজ, এবার ফেরার পথে কিংবা অফিস চলাকালীন সময় কেউ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে নাই। আর এতে করে আমার বংশবিস্তার এবং সংক্রামিত করতে সহজ হয়েছে। আমি এখন বাংলাদেশে ৩০/৪০শতাংশ মানুষের দেহে প্রবেশ করতে পেরেছি। আমি দেহে প্রবেশ করতে পারলেও তাদের আক্রান্ত করা অনেক কঠিন কারন এ জাতীর দেহের গঠন আকৃতি খাদ্যভ্যাস ভিন্ন। এ জাতী একটু সচেতন হলে হয়ত বেচে যাবে। কিন্তু এ জাতীর দেহে তেমন ঝামেলা না থাকলেও মাথায় ভীষণ ঝামেলা।
যত দিন যাচ্ছে বিজ্ঞানীরা আমাকে নিয়ে আমার অদ্ভুত কিছু বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে নতুন নতুন সব তথ্য জানতে পারছেন। এর কিছু কিছু তাদের চিন্তায় ফেলে দিয়েছে।
সবাই এতদিনে জেনে গেছেন যে করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ সংক্রমণ হলে মানবদেহে জ্বর, কাশি, স্বাদ গন্ধের অনুভূতি চলে যাওয়া – এসব উপসর্গ দেখা দেয়।
কিন্তু এমন কিছু লোক আছেন যাদের দেহে কোন উপসর্গই দেখা দেয় না।
তারা জানতেও পারেন না যে তারা আমাকে বহন করছেন – এবং সবচেয়ে ভয়ের কথা, তারা নীরবে অন্যদের সংক্রমিত করে চলেছেন।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ঠিক কত মানুষের মধ্যে এরকম ‘উপসর্গ-বিহীন’ সংক্রমণ ঘটেছে, এবং এই ‘নীরব বিস্তারকারীরাই’ এই ভাইরাস এত ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার জন্য দায়ী কিনা – তা জানা এখন খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে
নিয়মিত গরম পানি লেবু আদা কালো জিরা মধু সহ ভিটামিন সি এবং ডি এর প্রতি জোর দিলে হয়ত আমি দেহে প্রবেশ করতে পারলেও ক্ষতি করতে পারব না। শারিরীক এবং সামাজিক দূরত্ত বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে আর নিয়মিত গরম পানি চা আদা লেবু মাল্টার জুস রসুন কালি জিরা মধু খেলে আমার আক্রমন থেকে আপাতাত রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
আপাতাত এ পর্যন্ত থাক বাকি আলোচনা পরবর্তি ১৯ পর্বে হবে। সে পর্যন্ত সকলে ভাল থাকুন। আমাকে এরিয়ে চলুন।সকলে মাস্ক ব্যবহার করুন।
লেখক;মিজানুর রহমান মুন্সি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে