কেন বদলাবেন বদলাতে হবে- আবদুল আউয়াল ঠাকুর

0
42
কেন বদলাবেন বদলাতে হবে
আবদুল আউয়াল ঠাকুরআবদুল আউয়াল ঠাকুর।। দার্শনিক রুশোর একটি বহুল পরিচিত বাক্য দিয়েই শুরু করা যাক ।তিনি বলেছেন, মানুষ স্বাধীন ভাবে জন্মালেও সবর্ত্রই সে শেকল বন্দী। তার এই বন্ধীত্বের আলোচনা নতুন কিছু নয়। মানুষ তার পরিবেশ প্রতিবেশের বিরুদ্ধে কতটা লড়তে পারে সে কথাই গুরুত্বপূর্ন। কথা আমাদের দিকে ফেরান।আমরা এখন কোথায় আছি? প্রকাশ্যত যাই বলিনা কেন এক চরম অমানিবিকতার চূড়ায় অবস্থান করছি। মানুষ জন্মসূত্রে চোর নয় । তাকে চেষ্টাকরে আস্তে আস্তে চুরি রপ্ত করতে হয় ।প্রথম প্রথম হয়ত ধরা যায় না ।যখন চুরি তার রপ্ত হয়ে ওঠে তখন একটা বেপরোয়া ভাব গজিয়ে যায় আর সেটা তারা কাল হয় ।কথায় বলে দশ দিন চোরের একদির গেরস্থের। আসলে এখন চোর আর গেরস্থের মধ্যে ফারাক খুঁজে পওয়াটাও কষ্টকর।চারিদিকে বান -বণ্যা মহামারি তাতে কিন্তু চোরদের কোন ভয় -ভীতি বা লাজ -লজ্জা নেই।তারা যথারীতি যা করার তা করেই যাচ্ছে ।ত্রাণ নিয়ে করোনার উপকরণ নিয়ে পরীক্ষা নিয়ে যত ধরনের বটপারি করা যায় বা সম্ভব তার সবটাই বোধহয় করা হয়েছে হচ্ছে। অসুবিধাটা হচ্ছে, যখন ধরা পড়ছে তখন কেউ আর পূরনো কথা বলছে না। এটা তো ঠিক সে ই পূরনো কথা দায় দায়িত্ব সবটাই নিজের।কিন্তু তাতেই সবটার অবসান হয় বা হওয়া সম্ভব।প্রশয় আস্কারার বিষয়টি বাদ দিলে মূলে যাওয়া যায় না। ব্লাড ক্যান্সারের আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি হচ্ছে, হাড়ের ভেতরে মজ্জা পরিষ্কার করা ।এক সময় যখন এই চিকিৎসা পদ্ধতি মানুষের জানা ছিল না তখন রক্ত পরিবতর্ন করত। আসলে রক্ত বদললালেই এই রোগের চিকিৎসা হয় না। কারণ রক্ত নিঃশেষ করা যায় না। বীজ থেকেই যায়। আজকে যা ঘটছে তার বিস্তার কতটা ? আজকেও পত্র পত্রিকায় দেখা গেছে ফরিদপুর শহরের এক অখ্যাত ভবঘুরে কিভাবে রাতারাতি আশ্রয়ে প্রশয়ে শতশত কোটি টাকার সম্পদ বানিয়েছে।ঘটনার বিবরনে দেখা গেছে স্থানীয় দ্বন্দ বা ক্ষমতার লড়াইয়ের কারণে এ ঘটনা হয়ত উপরে উঠে এসেছে । আসলে এরকম কতটা ঘটনা রয়েছে তার কোন বিবরণ না থাকলেও অনুমান অসম্ভব নয় যে গেরস্থের খবরদারির ব্যবস্থা বিলুপ্ত হবার কারণে সারা দেশে গড়েওঠা মাস্তান সন্ত্রাসীরােই এখন সমাজ রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে এটা অনুমান করাও অন্যায় যে কোথাও মানুষ সুখে আছে বা থাকার কোন উপায় অছে।
রাজনৈতিক আশ্রয়ে পথকলিদের বেড়েওঠার কাহিনী এই প্রথম সেটা বললে হয়ত বেশিবলা হবে তবে এটা বলা বোধহয় অনুচিত নয় যে এখন যা ঘটছে তার কোন অতীত নজির নেই।রাজনীতি কেন সন্ত্রাসপূর্ণ বোধকরি সে প্রশ্নের একটা জবাব এখানে আছে ।সেই সাথে কারা এবং কি কারণে সন্ত্রাসের সাথে যুক্ত তারো একটা যুতসই জবাব এখানে রয়েছে।যারা শুণ্য থেকে নিজেদের গড়ে তুলেছেন তারা যদি যথাযথ শ্রম ও মেধা দিয়ে তা করতেন বোধকরি সেটি সকল মহলেই প্রশংশিত হতো । আসলে যা করেছে সেটি হোল জনগণের ভোগান্তিকে চরমে নিয়ে জনগণের বিপক্ষ শক্তিতে পরিণত হয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়া। দেশের মানুষ যে ভাল নেই একথা নতুন নয় ।কেউ এটা বিশ্বাস করতে চায় না। মানুষের অবস্থা দিন দিনই খারাপ হচ্ছে। অবৈধ প্রতিযোগিতার সাথে পাল্লা দিয়ে সাধারণ মানুষ পরছে না। পারার কথাও নয় ।বাসভাড়া বৃদ্ধি বাজার মূল্যের আকাশ ছোঁয়া গতি জন নিরাপত্তাহীনতা নারী শিশু নিরযাতন ধষর্ণ সবকিছু এমন এক অবস্থায় গিয়ে পৌঁছেছে যে মানুষ এখন বেঁচে আছে না মরে গেছে সে বোধটুকুও হয়ত হারিয়ে ফেলেছে।যে যেভাবেই বলুন না কেন দেখা যাচ্ছে, যে সব বাহিনী গত কিছুদিনে নানা কারণে দু একজনকে গ্রেপ্তার করছে এদের সাথেই এসব সামাজিক শত্রুদের ওঠাবসা ছিল । এদের কারণেই সাধারণ জনগণকে প্রতিপক্ষ বিবেচনাকরে যা খুশি তাই করা হয়েছে।মোটকথা একটা প্রতিবাদহীন অবদমিদ সমাজে পরিণত হবার কারণে সমাজের স্বাভাবিক চিত্রই পাল্টে গেছে। এখন আর কেউ কোনটি ভাল কোনটি মন্দ বোধকরি সে ধারনা করতে পারছেনা।কেন এমনটা হয়েছে বা হতে পেরেছে।
মানুষ কোথায় শিখে?যদিবলি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাহলে বলতে হবে আলোচিতরাতো ওর ধারে কাছেও যায়নি।প্রায় অশিক্ষিত অথবা অল্প শিক্ষিতদের এভাবে প্রধান শ্রেতে নিয়ে এসেছে কারা ?টক শোর শাহেদের কথাই যদি বলি এধরনের প্রায় অশিক্ষিত একজন মানুষ কিভাবে কেমনকরে এতদূর এসেছে ?না কোন ভাবেই এটি একক প্রচেষ্টা নয়।বড় অমসৃণ পথে তাকে এগুতে হয়েছে সমাজের বুদ্ধিবৃত্তিক গন্ডিতে ।কি বলতে হবে কেমনকরে বলতে হবে কাদের উদ্দেশ্যে বলতে হবে এসব অনেক কথা। আসলে বাংলায় একটা কথা আছে শুকরে চেনে কচু । কার সাথে কার সম্পর্ক এটি নিরর্ধারিত হয় স্বীয় মানের উপর।চুম্বক কখনো বিপরীত মেরুতে আকষর্ণ করে না। বলতে দ্বিধা নেই সমাজে পরিবারে মূল্যবোধের কোন প্রশিক্ষণ নেই।বরং এগুলো নিয়ে কেউ কথা বললে নানা কথা শুনতে হয়।সামাজিক ও প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষাবিহীন এক অপসংস্কৃুতির কালোভল্লুক তাড়াকরে ফিরছে আমাদের। সমাজে অবিচার অনাচার অবৈধ অর্থচুরি যে অন্যায় সেকথা সমাজ থেকে প্রায় বিদূরিত।এক সময় মনেকরা হোত সমাজের অধিকাংশ লোকই ভাল মুষ্টিমেয় কিছু লোক হয়ত খারাপ ।এখন বোধহয় অবস্থা পাল্টে গেছে।দুচার জন ভাল থাকলেও থাকতে পারে বাকিরা সবই অর্থনীতির ভাষায় যেভাবে খারাপ টাকা বাজার থেকে ভাল টাকাকে তাড়িয়ে দেয় সেভাবে খারাপ অভ্যেসের মানুষেরা ভাল মানুষদের তাড়িয়ে দিয়েছে।
এই মহা সংকটকালে ধরিয়ে দিচ্ছে কিছুচিত্র চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে দ্বিপদি থাকলেও মানুষ নামের কতটা অযোগ্য হয়ে পড়েছি আমরা।সেজন্যই পাল্টাতে হবে পুরোটা।হতেহবে মানবিক কল্যাণমুখী।কাজটা সকলের সেজন্যই সমবেত আন্দেলন প্রতিবাদ আবশ্যকীয়।আসলে বিড়ালের গলায় ঘন্টাবাধার অপেক্ষা না করে সকলেরই ভাবনায় থাকতে হবে সবকিছু । সম্প্রতি একজন সাবেক লেজে: এক সাক্ষাৎকারে নানা আলোচনায় একটি কথা বলেছেন ।তারমতে, যে অন্যায় প্রতিরোধে আমাদের বাচ্ছারা এগিয়ে এলো আমরা তাদের সাথে থাকতে পারি নি।যাইহোক ভেতরে না পাল্টালে উপরে পাল্টিয়ে কোন লাভ নেই ।আমাদের টিকে থাকতে হলে আমাদের ভেতরের মন্দটাকে উপড়ে ফেলতে হবে ।দোষারোপ নয় বরং আত্মশুদ্ধির চেতনায় উজ্জীবিত হতেহবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে