বাংলাদেশ ভারত সম্পর্কের ‘রক্তে ভাঙ্গণ’-আবদুল আউয়াল ঠাকুর

0
12
বাংলাদেশ ভারত সম্পর্কের ‘রক্তে ভাঙ্গণ’
আবদুল আউয়াল ঠাকুর ।। কথাটা কদিন অগেই সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদক অনেকটা ঘটা করে বলেছিলেন ।অবশ্য তিনি তো এমনি বলেন নি।কথা উঠেছিল তাই ছুড়ে দিয়েছিলেন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কথাটি বলেছিলেন দুদেশের সম্পর্ক নাকি রক্তের । ঠিক জানিনা রক্তের সম্পর্ক বলতে প্রকৃত কি বোঝায় । বাসুল (স:) রক্তের সম্পর্ক ছিন্ন করতে নিষেধ করেছেন। আর রক্তসম্পর্ক বলতে কি বোঝায় তারও একটা সংগা রয়েছে ।সেদিকে গিয়ে লাভ নেই ।রাজনৈতিক আলোচনায় থাকাই উত্তম।বিষয়টি দুদেশের সম্পর্ক।
বোধকরি এটা বলার অপেক্ষা রাখে না আলোচ্য দুদেশের বর্তমান সম্পর্ক নিয়ে এযাবৎকাল যত আলোচনা বিশেষকরে দু দুটো অগ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে তা থেকে ব্যতিক্রমী অবস্থায় চলছে।জীববিজ্ঞানীদের ভাষায় রক্তে রক্তে কোন পার্থক্য না থাকলেও জিনের আলোচনা ভিন্ন। এটি বংশ পরম্পরায় বিস্তৃত হয় । সে বিবেচনায় দুদেশের সম্পর্ক দেখতে গেলে নানা বিষয় আসতেই পারে। কথাটা খুব সোজা যত রক্ত ধারারই আলোচনা হোক না কেন বাস্তবতার কারণেই ভারত পাকিস্তান বাংলাদেশ তিনটি আলাদা দেশ । এরা কখন কোন প্রেক্ষিতে এক দেশ ছিল সে আলোচনা প্রায় এখন সবারই জানা। একমাত্র মুসলিম শাসক মোঘলরাই তাদের রণকৌশলে ভারতকে একত্র করেছিল। এরপরের কাহিনী অরো সহজ ।বৃটিশরা যেমনি চায়নি তেমনি ভারতীয় হিন্দু বিশেষকরে ব্রাহ্মণরাও চায়নি যে একটি ভারত হোক। এর কারণ অনেক।কৌশলগতভাবে বৃটিশরা একক ভাবে মুসলমানদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায়নি। কারণ এখানে ক্ষতিপূরণের বিষয় ছিল।আর মুসলমানদের হাতে বৃটিশরা ক্ষমতা হন্তান্তর করুক এটা তো কোন অবস্থাতেই হিন্দুরা যাতে মেনে না নেয় সেজন্যই বৃটিশ পৃষ্ঠপোষকতায় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। সেসব অনেক কথা ।এখন আর আলাপ করে লাভ নেই। ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রামেই পরিস্কার হয়ে গিয়েছিল রাজনৈতিক বাস্তবতা । সে সূত্র ধরেই মূলত ভারতের বিভক্তি হয়েছিল।এ অঞ্চলে বাংলদেশের বাস্তবতাই প্রমাণ করে ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক এক ও অভিন্ন নয় বরং বহুমাত্রিক ও ভিন্ন।ভারতের একজন কূটনীতিকের বাংলদেশ সফরের পর অনেক ঢাক গুড়গুড় আবস্থার অবসান হয়েছে। অনেক না বলা বা বলতে মানা থাকা কথাও সামনে চলে এসেছে।রাষ্ট্রীয়ভাবে কোন ভাষ্য না থাকলেও এ যাবৎকাল যা বলাহয়েছে এবং হচ্ছে তাতে একটা বিষয় পরিস্কার হয়ে উঠেছে রক্তের সম্পর্কে ভাঙ্গণ ধরেছে ।কিন্তু কেন ? প্রকাশ্য যাযা বলাহচ্ছে , তাতে পরিস্কার যে সরকারের পক্ষ থেকে হয়ত এটা পরিস্কার হয়েছে যে, সম্পর্কটা দেয়া নেয়ার নয় বরং শুধুই নেয়ার। অর্থাৎ কি পেলাম তার একটা কথা এখানে বড় হয়ে উঠেছে।অন্যভাবে বলা যায় মূলো ঝুলিয়ে রাখার প্রবণতাই প্রকট হয়ে উঠেছে। একটি দৈনিকে ভারত বাংলাদেশের জানাশোনাদের নিয়ে বেশ চমৎকার আলোচনা প্রকাশিত হয়েছে । নানা কথা সেখানে আছে। বলা হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে ভারত বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক রাখছে কিন্তু তাতে সেদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ লোক ভারতের উপর নাখোস হচ্ছে।এখানে কথা উঠেছে বিএনপি নিয়েও । এখানে মূল কথা যেটি তাহলো বাংলাদেশের নির্বাচনে ভারতীয় অংশগহণ ভারতের জন্য কতটা কল্যাণকর হয়েছে? একটি অন্তরবর্তীকালীন নির্বাচনের মৌখিক ঘোষনা দিয়েও সরকার সে নির্বাচনে না গিয়ে অন্যদিকে মোড় নিয়েছিল ।এটা কোথাও বলা নেই তবে চালু রয়েছে মূলত ভারতীয়রাই তখন প্ররোচিত করেছিল নির্বাচন না করতে ।সত্যসত্য যাচাই করার অবস্থা নেই তাই চালু কথাই লিখলাম।কারণ পরবর্তী ঘটনায় এর সত্যতা মিলে।আলোচকরা সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে যে কটি বিষয়কে সামনে এনেছেন তার মধ্যে তিস্তার প্রসঙ্গটি র পাশষাপশি সীমান্তহত্যা এবং ভারতের নাগরিকত্ব আইনকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কিছুদিন অগে পিঁয়াজ নিয়ে ভারতীয়দের সৃষ্ট জটিলতার সময়ই এ্‌ই সম্পর্কের কথাটা বেজায় বেখাপ্পা সুরে বেজে উঠেছিল ।কারণ নিজদেশে কমদামে বিক্রী হচ্ছে পিঁয়াজ অথচ তা রফতানিতে বাধা দেয়া হয়েছে।সীমান্ত হত্য নিয়ে তো কথা বলে লাভ নেই ।সরকারে সাথে কথিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অথচ বন্ধুর দেশের মানুষকে নির্বিচারে গুলিকরে মারা হচ্ছে।মূলত এরমধ্য দিয়েই ভারতীয়দের আচরণ খানিকটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।ঐ যে বলাহয় পাখী চেনা যায় তার পালক দ্বারা।
বৈশ্বিক বা আঞ্চলিক পরিবর্তণ যেটাকেই গুরুত্ব দেয়া যাক না কেন কতগুলো নতুন আলামত স্পষ্ট হয়ে উঠতে শুরু করেছে।শেষপর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাড়াবে সেটি ভবিতব্যের ব্যাপার ।তবে এটা বোঝাযায়
বিষয়গুলো অগের মত নয়।অনেক কথা থাকলেও এটা বোধকরি সকলেই একমত হবেন যে চীণ তার বন্ধুদের গ্রাস করে না। তাদের পঞ্চশীলা নীতির আওতায় সম্পর্ক ঠিক রাখে । চীন পকিস্তান সম্পর্ক তার প্রমাণ।আমেরিকার হুমকির মুখে চীণ অচল অটল হয়ে পাকিস্তানের পাশে দাড়ালেও পকিস্তানের স্বাধীনতা – সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়নি। বাংলাদেশের সাথে ভারতের গভীর হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক সুবিধা দিতে যেমনি কুণ্ঠা করেনি তেমনি তিস্তাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের পাশে দাড়াতে পিছিয়ে নেই। ভারতও চীনের সাথে দুটো সম্পর্কই মূলত বর্তমান সরকারের আমলের। মূলে কি আলোচনা হয়েছে বা হচ্ছে, সেটি পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে যারা কাজ করেন তারা বলতে পারবেন ।অথবা নীতি নির্ধারকগণ ।সেসব প্রসঙ্গ আলাদা তবে একটি বিষয় অত্যন্ত পরিস্কার হয়ে গেছে যে, ভারত আসলে আমদের পরীক্ষিত বন্ধু নয় বরং শোষক।এটা আশাকরা অন্যায় নয় যে বাংলাদেশ ভারত সম্পর্কে আমদের দেশের কিছু রাজনীাতিবীদ ব্যক্তিত্ব যে মূল্যায়ণে দেখে থাকেন তাতে সুনির্দিষ্ট ব্যত্যয় ঘটেছে।আসলে বন্ধু সেই যে বিপদে পশে থাকে সুখে এবং দুঃখে। অন্যরা বসন্তের কোকিল। অগ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে যে সংকট ঘনিভূত হয়েছে মূলত তার পরোক্ষ ফায়দা লুটতে ভারত চায় কিনা জানা নেই তবে সতর্ক হবার সময় যে এসে গেছে তাতে কোন সন্দেহ নেই।সম্পর্কের রক্তে যে ফাটল শুরু হয়েছে তা তো সকলেই বলছেনতবে বলছেন না ফাটলে পরিণতি নিয়ে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে