মাদারীপুরে ২১ বছর পর ধর্ষণ মামলায়, আসামীর ১০ বছর জেল ও ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা

0
2

মাদারীপুরে ২১ বছর পর ধর্ষণ মামলায়, আসামীর ১০ বছর জেল ও ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা

  • Update Time :
    Thursday, September 24, 2020
  • 2 Time View


মাদারীপুর:
মাদারীপুরে ১৫ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ মামলায় সামচুল হক নামে একজনের ১০ বছরের কারাদন্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে অপর দুই আসামীর দোষ প্রমান না হওয়ায় তাদের খালাস দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নিতাই চন্দ্র সাহা এই রায় প্রদান করেন। তবে, দন্ডপ্রাপ্ত সামচুল হক পতালক রয়েছেন।
মামলার বিবরনে জানা যায়, কালকিনি উপজেলার দক্ষিণ কানাইপুর গ্রামের প্রভাবশালী শামসুল হক নজর পড়ে একই এলাকার দরিদ্র পরিবারের ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর উপর। তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করতে ব্যর্থ হয়ে প্রলোভন দেখিয়ে একটি নীল কাগজে ভুয়া বিয়ের কাবিননামা দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করেন ওই ব্যক্তি। এতে ওই ১৫ বছর বয়সী কিশোরী গর্ভবতী হয়ে পড়ে। পরে স্বামী ও সন্তানের স্বীকৃতি চাইলে অস্বীকার জানান শামসুল হক। স্বামী ও সন্তানের স্বীকৃতির জন্য বিচারের আশায় ১৯৯৯ সালের ২৮ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরিবারটি অসহায় হওয়ায় মামলা পরিচালনার দায়িত্ব নেয় মাদারীপুর লিগাল এইড এসোসিয়েশন। এক পর্যায়ে আসামীপক্ষ উচ্চ আদালতেও রিট করে এবং বিভিন্ন কৌশলে দীর্ঘদিন ধরে মামলাটি দীর্ঘসূত্রিতার চেষ্টা করে। গত ২০১৭ সালে আদালত ডিএনএ টেস্টের জন্য নির্দেশনা প্রদান করে। কিন্তু আসামী শামসুল হক হাওলাদার এখন পর্যন্ত ডিএনএ টেস্ট করেননি। প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে ও শারীরিক সম্পর্কে জন্ম নেয়া ওই নারীর ছেলের বয়স এখন ১৯ বছর ৬ মাস। পরে আদালত ৯জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্যগহণ ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে শামসুল হকের ১০ বছরের কারাদন্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন। একই সাথে অপর দুই আসামীর দোষ প্রমান না হওয়ায় তাদের খালাস দেয়া হয়েছে।
মাদারীপুর আদালতের পিপি এ্যাডভোকেট সিদ্দিকুর রহমান সিং জানান, রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। দ্রুত রায় কার্যকর করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আসামী গ্রেফতারসহ সকল ধরনের সহযোহিতা করা হবে।
লিগ্যাল এইড এ্যাসোসিয়েশনের বাদী পক্ষের আইনজীবি এ্যাডভোকেট আবুল হাসান জানান, ১১ জন সাক্ষীর মধ্যে ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। মামলায় স্ত্রী হিসেবে ও জন্ম নেয়া সন্তানের স্বীকৃতি এবং ভরণপোষণ বাবদ ক্ষতিপূরণ এবং আসামীর বিচার দাবী করা হয়। রায়ে ১০ বছরের কারাদন্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা প্রদান করেন আদালত। জরিমানার অর্ধেক পাবে মামলার বাদী ও বাকি অর্ধেক টাকা ক্ষতিগ্রস্ত কিশোরীকে দিতে বলা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে