নোয়াখালীতে ছাত্র-ছাত্রীকে আটকে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে টাকা আদায়

0
1

 

নোয়াখালীর সদর উপজেলার কাদিরহানিফ এলাকায় সহপাঠীর সাথে কথা বলা অবস্থায় এক কলেজছাত্রীকে (১৯) আটকের পর বিবস্ত্র করে ছবি-ভিডিও ধারণ ও গণধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করলেও এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে আসামিরা। শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ভুক্তভোগী ছাত্রী বাদী হয়ে সুধারাম থানায় মামলা করেছেন। মামলায় তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তবে পুলিশ তাদের কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

এদিকে মামলার ৩নং আসামি রায়হান বিদেশ গমনের চেষ্টা করার খবর পেয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশের মাধ্যমে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ওই ছাত্রীর গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে কৃষ্ণরামপুর গ্রামে তাদের বাড়ি গেটের সামনে দাঁড়িয়ে তার সহপাঠীর (২০) সঙ্গে পরীক্ষার সাজেশনের বিষয়ে কথা বলছিল। এ সময় তার পরিবারের সবাই আত্মীয়দের বাসায় ছিলেন। এ সুযোগে স্থানীয় পুলক মজুমদার, আকবর হোসেন ও রায়হান উদ্দিন এসে ওই ছাত্রছাত্রীর সঙ্গে টানাহেঁচড়া শুরু করে। একপর্যায়ে ওই তিনজন তার সহপাঠীকে ধাক্কা দিয়ে ছাত্রীর ঘরের ভেতরে নিয়ে যায়। ঘরের ভেতরে নিয়ে যাওয়ার পর রায়হান তার সহপাঠীকে তাদের রান্নার কক্ষে ও পুলক এবং আকবর ঘরের ভেতরের কক্ষে তাকে নিয়ে যায়। ওই কক্ষে গিয়ে প্রথমে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর ও পরে বিবস্ত্র করে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে। এ সময় পুলক ও আকবর তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে অন্যথায় তার এসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। কিন্তু ওই ছাত্রী টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে পুলক ও আকবর তাকে গণধর্ষণের চেষ্টা চালায়।

এরই মধ্যে ছাত্রীর চিৎকারে পাশের সড়ক দিয়ে যাওয়া লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত তিনজন পালিয়ে যায়। পরে এ ঘটনায় নির্যাতিতা বাদী হয়ে শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে পুলক, আকবর ও রায়হানকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সুধারাম মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাহেদ উদ্দিন বলেন, ওই ছাত্রীর দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত তিন আসামিকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে। অপরদিকে মামলার ৩নং আসামি বিদেশ গমনের সংবাদ পেয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহযোগিতায় তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে