শোক-শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় কিশোরগঞ্জে ভাষা শহীদদের স্মরণ

0
1

 

পলাশ-শিমুলের রক্তলাল মিলেছে শহীদ বেদীতে। কৃষ্ণচূড়ায় রক্তের লাল আজ আরও গাঢ়। আর ভোরের সূর্যও যেন লালে লাল। রক্তমাখা বর্ণমালায় অর্ঘ্য দিতেই এত আয়োজন! মায়ের ভাষা রক্ষায় যারা বুকের রক্ত ঢেলেছিলেন, জাতি আজ তাদের শ্রদ্ধা জানাতেই সাজিয়েছে ফুলের ডালা। একুশ মানে রক্তস্নাত ভোরের সূর্য। একুশ মানে মাথা নত না করা। একুশ মানেই বাংলা জয়ের প্রথম প্রহর। মা-মাটি- মানুষের আবেগের বিস্ফোরণ।

শোক, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় কিশোরগঞ্জে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়েছে। রবিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে ভাষা শহীদদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ।

মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। যেন অধিকার আদায়ে বাঙালির জীবনে প্রথম সূর্যোদয় এদিন। রক্ত দিয়ে মাতৃভাষার অধিকার ছিনিয়ে নেয়ার দিন ২১ ফেব্রুয়ারি। একুশের প্রথম প্রহরেই ফুলে ফুলে ভরে উঠছে দেশের শহীদ মিনারগুলোর বেদী। দিনব্যাপী ফুল দিয়ে বিনন্ম্র শ্রদ্ধা স্মরিবে জাতির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান ভাষা শহীদ সালাম, রফিক, জব্বারদের। শহীদ দিবসে শোককে শক্তিতে রূপ দিয়ে বাঙালি তার দেশমাতৃকার চেতনাদীপ্ত শপথ নিয়ে এগিয়ে যাওয়া প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদনে কোনোই কার্পণ্য থাকেনা কিশোরগঞ্জবাসীর। দল-মত, জাতি-ধর্ম, আবাল-বৃদ্ধা নির্বিশেষে সকলেই ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে অধীর আগ্রহে থাকেন এদিন। নগ্নপায়ে ফুলের ডালায় হাত রেখে গেয়েছে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’। আর তারই ধারাবাহিকতায় শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যদিয়ে সারাদেশের ন্যায় কিশোরগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যদিয়ে অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২১ পালিত হয়েছে। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের সর্বস্থরের হাজারো মানুষ।

একুশের প্রথম প্রহরে কিশোরগঞ্জ জেলার সর্ববৃহৎ বিদ্যাপীঠ সরকারি গুরুদয়াল কলেজ মাঠে শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যদিয়ে জেলা প্রশাসন, কিশোরগঞ্জ পুলিশ, জেলা পরিষদ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজ ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন সারাদেশের ন্যায় যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি উদ্বযাপনের লক্ষে বর্ণাঢ্য কর্মসূচীর আনুষ্ঠানিকতা শুরু করে।

গুরুদয়াল সরকারি কলেজ মাঠে স্থাপিত জেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাত ১২টা এক মিনিটে ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতির বড় ছেলে রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক এমপি, জাতীয় নেতা শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের মেয়ে ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি এমপি, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম, পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম (বার), জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান শাহজাহান, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম.এ আফজল, পৌর মেয়র মাহমুদ পারভেজ, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মামুন আল মাসুদ খান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. আসাদউল্লাহ, জেলা ছাত্র লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন সুমন মোল্লা, ‘হৃদয়ে কিশোরগঞ্জ’ মানবাধিকার সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক এবং উৎসর্গ জাতীয় সেচ্ছাসেবক সমন্বয়ক কমিটির দপ্তর সম্পাদক মোঃ সাখাওয়াত হোসেন আকাশ, সদস্য মনির হোসেন পিয়াস, মো. জুবাইদুল ইসলাম আরমান, সুজন দাস, সোহাগসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এরপর ধারাবাহিকভাবে সরকারি-বেসরকারি সংগঠন, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্যদিয়ে শহীদ মিনারসহ আশপাশের পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় কিশোরগঞ্জের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।

সকালে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে একে একে কিশোরগঞ্জ জেলা সদরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুষ্পস্তবক অর্পণ করে এবং নানা শ্রেনী-পেশার মানুষের হৃদয় নিংড়ানো শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় সিক্ত হয় স্মৃতির মিনার। নেয়া হয় নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা। সকল সরকারি-বেসরকারি-আধা সরকারি ভবন, দোকানপাঠসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করে উত্তোলন করা হয়।

এদিকে ভাষা শহীদদের স্মরণে জেলা আওয়ামী লীগ ও জেলা বিএনপি তাদের স্ব স্ব কার্যালয়ে জাতীয়, দলীয় ও কালো পতাকা উত্তোলন এবং কালো ব্যাজ পরেন।

এছাড়া মসজিদ, মন্দির, গীর্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে ভাষা শহীদদের রুহের মাগফিরাত-আত্মার শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত-প্রার্থনা করা হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে